সর্দি-কাশি একটি সাধারণ কিন্তু অস্বস্তিকর সমস্যা, যা আবহাওয়ার পরিবর্তন, শীতকাল, ধুলোবালি, ভাইরাস সংক্রমণ কিংবা দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার কারণে হয়ে থাকে। বিশেষ করে শীতের সময়ে এবং ঋতু পরিবর্তনের সময় শিশু, বয়স্ক ও শারীরিকভাবে দুর্বল মানুষ বেশি আক্রান্ত হয়। তাই সর্দি-কাশি থেকে নিজেকে ও পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে কিছু প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।

- প্রথমত, উষ্ণ পোশাক পরা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ঠান্ডা আবহাওয়ায় শরীরের তাপমাত্রা ঠিক রাখতে গরম জামা-কাপড়, মাফলার, মোজা ও টুপি ব্যবহার করা উচিত। বিশেষ করে সকাল ও রাতের ঠান্ডা বাতাস এড়িয়ে চললে সর্দি-কাশির ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। ভেজা কাপড় পরে থাকা থেকে বিরত থাকাও জরুরি।
- দ্বিতীয়ত, গরম পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। গরম পানি গলার ভেতর জমে থাকা জীবাণু দূর করতে সাহায্য করে এবং কাশি কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। চাইলে গরম পানিতে লেবু বা মধু মিশিয়ে পান করা যেতে পারে। এছাড়া আদা, তুলসি, লবঙ্গ বা দারুচিনি দিয়ে তৈরি ভেষজ চা সর্দি-কাশি উপশমে বেশ উপকারী।
- তৃতীয়ত, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন। নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া উচিত, বিশেষ করে বাইরে থেকে বাসায় ফেরার পর এবং খাওয়ার আগে। হাঁচি বা কাশির সময় রুমাল বা টিস্যু দিয়ে মুখ ও নাক ঢাকুন। ব্যবহৃত টিস্যু দ্রুত ফেলে দিন এবং হাত পরিষ্কার করুন। এতে জীবাণু ছড়ানোর ঝুঁকি কমে
- চতুর্থত, পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করুন। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার যেমন কমলা, লেবু, আমলকি, পেয়ারা ও কাঁচা শাকসবজি খাওয়া উচিত। পর্যাপ্ত প্রোটিন, ফলমূল ও তরল খাবার শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। খুব ঠান্ডা খাবার ও পানীয় এড়িয়ে চলাই ভালো।
- পঞ্চমত, পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম নিশ্চিত করুন। নিয়মিত ৭–৮ ঘণ্টা ঘুম শরীরকে শক্তিশালী করে এবং সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা বাড়ায়। অতিরিক্ত কাজের চাপ ও মানসিক দুশ্চিন্তা কমানোও সর্দি-কাশি প্রতিরোধে সহায়ক।
সবশেষে, যদি সর্দি-কাশি দীর্ঘদিন ধরে থাকে, সঙ্গে জ্বর, শ্বাসকষ্ট বা বুকে ব্যথা দেখা দেয়, তাহলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। নিজে নিজে ওষুধ খাওয়ার অভ্যাস পরিহার করা উচিত। সচেতনতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে সহজেই সর্দি-কাশি থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।
